দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এমতাবস্থায় (২ এপ্রিল) শ্রেণিকক্ষে হেলমেট পরে বসেছেন দুজন শিক্ষার্থী।
এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। এ ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হেলমেট নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আসেন।
গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান নয়ন গণমাধ্যমকে জানান, হেলমেট পরে পরীক্ষার হলে বসার ছবিটি মূলত পরীক্ষা শুরুর আগে তোলা। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের অনেকটা প্রতিবাদস্বরূপ। আমাদের রুমগুলো দীর্ঘদিন থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। গতকাল সেমিনার কক্ষে পলেস্তারা খসে পড়ে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন, একজনের ল্যাপটপ ভেঙে গেছে। তাই সব মিলিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ ও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমরা হেলমেট পরেছিলাম।’
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রায় এক মাস আগে এক শিক্ষকের কক্ষেও পলেস্তারা খসে পড়েছিল। ২০১৫ সালে রাজউক ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মিজানুর রহমান হেলমেট পরার বিষয়টি পরীক্ষার সময় তার নজরে পড়েনি বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি পরীক্ষার হলে ছিলাম, তবে শিক্ষার্থীরা কখন হেলমেট পরে ছবি তুলেছে তা আমার জানা নেই। ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছে, আমাদের তিনটি ক্লাসরুম ও দুটি ল্যাব ঝুঁকিপূর্ণ নয়। সেখানে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া চলবে।’
তবে শিক্ষকদের বসার জায়গা এবং সেমিনার কক্ষটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের অন্যত্র স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষার্থীদের হেলমেট পরার বিষয়টি মূলত কাজ সম্পন্ন না হওয়ার কারণে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হতে পারে।’
ভবন সংস্কারের বিষয়ে ড. মো. মিজানুর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ভূমিকম্পের পর ভবনগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা পরিদর্শন করে রেট্রোফিটিং করার পরামর্শ দেয়। তৎকালীন উপাচার্য একটি কমিটি গঠন করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী কিছু কক্ষের সংস্কার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়াও চলছে। মূল কাঠামোর ফাটলগুলো ‘ফলস সিলিং’-এর কারণে ঢাকা পড়ে থাকায় আগে থেকে ঝুঁকি শনাক্ত করা কঠিন ছিল। এখন সিলিং সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের নকশা ও ব্যয়ের হিসাব সম্পন্ন হয়েছে।
/অ